কেমন ছিল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের প্রথম আসর - Gono television | বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।
কেমন ছিল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের প্রথম আসর

কেমন ছিল মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের প্রথম আসর

Oplus_131072

চিত্রনায়িকা শাবনূর ভেবেছিলেন, পুরস্কারটা তিনি পাবেন না। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে সেই সময়ের আরেক ব্যস্ত নায়িকা পপিকে ঘিরে এফডিসিতে জোর চর্চা চলছিল। পপিই পাচ্ছেন, এমন গুজবও ছড়িয়ে পড়েছিল। তালিকায় ছিল মৌসুমীর নামও। সব মিলে শাবনূরের আশা তলানিতে নেমেছিল।
সেদিন সাদামাটা পোশাকে হাজির হয়েছিলেন শাবনূর। তবে দর্শকেরা শাবনূরকে খালি হাতে ফেরায়নি। পপি ও মৌসুমীকে পেছনে ফেলে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে শাবনূরের নামই ঘোষণা করেছিলেন অভিনেতা বুলবুল আহমেদ।
শাবনূর মঞ্চে এসে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেনফাইল ছবি
এমন ঘোষণায় শাবনূর মঞ্চে এসে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। শাবনূরের মুখে কোনো কথাই নেই। হাঁপাচ্ছিলেন। দর্শকসারি থেকে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সিদ্দিক জামান নান্টু চেঁচিয়ে বললেন, ‘একটু পানি খেয়ে নাও।’ পুরস্কার গ্রহণের পর আনন্দে আটখানা শাবনূর নিজের আসনটি নাকি খুঁজেই পাচ্ছিলেন না!

১৯৯৯ সালে আয়োজিত ‘মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ ও সমালোচক পুরস্কার ১৯৯৮’-এ তারকা জরিপে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার বাগিয়েছিলেন শাবনূর।
১২ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকার হোটেল শেরাটনের বলরুমে বসেছিল মেরিল–প্রথম আলো পুরস্কারের প্রথম আসর। তারকা জরিপ ও সমালোচক পুরস্কার শাখায় মোট ১৫ বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়।
মেরিল-প্রথম আলো তারকা জরিপ পুরস্কারের প্রথম আসরে দুই সঞ্চালক আফজাল হোসেন ও সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে তৌকীর আহমেদ, বিপাশা হায়াত ও প্রয়াত অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদিফাইল ছবি
এই জমকালো আসরের কান্ডারি ছিলেন ছোট পর্দার তারকা জুটি আফজাল হোসেন ও সুবর্ণা মুস্তাফা। লেখক, সাংবাদিক আনিসুল হকের আমন্ত্রণে মঞ্চে এসে আফজাল হোসেন বললেন, ‘আমরা ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এলাম।’ খানিকটা ভ্রু কুঁচকে সুবর্ণা মুস্তাফা বললেন, ‘কোত্থেকে!’
আফজাল হোসেন খোলাসা করলেন, ‘ইতিহাস থেকে।’ হেসে সুবর্ণা বললেন, ‘নাকি প্রাগৈতিহাসিক…!’ আফজাল হোসেন দর্শকদের বললেন, ‘মেরিল–প্রথম আলো তারকা ও সমালোচক পুরস্কারের প্রথম আসর হচ্ছে আজ। আজ এই যে আপনারা তালি দিচ্ছেন, এটাও কিন্তু ইতিহাস হয়ে থাকবে।’
মেরিল–প্রথম আলো তারকা ও সমালোচক পুরস্কারের প্রথম আসর হচ্ছে আজ। আজ এই যে আপনারা তালি দিচ্ছেন, এটাও কিন্তু ইতিহাস হয়ে থাকবে।
আফজাল হোসেন
শাবনূরসহ মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারের প্রথম আসরের পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা, শিল্পীদের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে। সঙ্গে প্রথম পুরস্কারের উপস্থাপক হিসেবে আফজাল-সুবর্ণা জুটির নামও লেখা থাকবে। টানা তিন ঘণ্টা উপস্থিত দর্শকদের মোহিত করে রেখেছিলেন এই জুটি। পুরস্কারের পরদিন ১৯৯৯ সালের ১৩ মার্চ প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘তারার মেলায় এক আনন্দময় সন্ধ্যা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ১৭ মার্চ বিনোদনভিত্তিক সাময়িকী আনন্দ-তে পুরস্কার নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।
১৩ মার্চ প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘তারার মেলায় এক আনন্দময় সন্ধ্যা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়ছবি: সংগৃহীত
এসব প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে, মান্না ও শাকিল খানকে পেছনে ফেলে তারকা জরিপে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান রিয়াজ। সুচন্দার হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার পর মাইক্রোফোন হাতে রিয়াজ বলেছিলেন, ‘দর্শকের এত ভালোবাসা পাব, তা ধারণার অতীত ছিল। এটা শুধু পুরস্কার নয়, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা।’ এরপর সেরা গায়ক হিসেবে তপন চৌধুরীর নাম ঘোষণা করা হয়। নিলুফার ইয়াসমিনের হাত থেকে পুরস্কার নেন তপন চৌধুরী। সেরা গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন। সাবিনা ইয়াসমীনের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে সুবীর নন্দী বলেছিলেন, ‘আশা করব, প্রথম আলোর ৩৫–৩৬ বছর পূর্তিতেও এমন আয়োজন করবে।’
পুরস্কার নিয়ে দুটি করে গান শুনিয়েছেন সাবিনা ইয়াসমীন ও তপন চৌধুরী। সেরা ব্যান্ডের পুরস্কার পেয়েছে এলআরবি। লাকী আখান্দের হাত থেকে পুরস্কার নিয়ে হ্যাপী আখান্দ্‌ ও আজম খানকে পুরস্কার উৎসর্গ করেছেন আইয়ুব বাচ্চু। সেই আসরে গান শুনিয়েছিল রেনেসাঁ ব্যান্ড।
সেরা টেলিভিশন উপস্থাপকের পুরস্কার পেয়েছিলেন হানিফ সংকেত। টিভিতে জনপ্রিয় অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছিলেন জাহিদ হাসান। সেই অনুষ্ঠানে টাই পরে এসেছিলেন এই অভিনেতা। তাঁকে দেখে উপস্থাপক আফজাল কবিতার ছন্দে বলেছিলেন, ‘জাহিদের টাই, দেখে বোঝা উচিত ছিল উনি পুরস্কার পেয়েছেন তাই।’ জাহিদ হাসানও কম যান না, জবাবে বললেন, ‘আনিসুল হক সুন্দর জামাকাপড় পরে আসতে বলেছিলেন তাই।’জাহিদ পুরস্কার গ্রহণের পর মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় বিপাশা হায়াত ও তৌকির আহমেদকে। সেই অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগেই বিয়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন এই জুটি। হুমায়ূন ফরীদির কাছ থেকে বিটিভির সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার নেন বিপাশা হায়াত। এরপর মঞ্চে জাদু দেখান জুয়েল আইচ।
এটাই আমার বাংলাদেশের অস্কার।
তারিক আনাম খান
এরপর সমালোচক পুরস্কার শাখায় সেরা অভিনেতা ও নাট্যকারের পুরস্কার জিতেছেন তারিক আনাম খান। পুরস্কার গ্রহণের পর তারিক আনাম বলেছিলেন, ‘এটাই আমার বাংলাদেশের অস্কার।’ তারিক আনামকে সায় দিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘অস্কার দরকার নেই, এটাই (মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার) অব্যাহত থাকুক, আমরা তাতেই অগ্রসর হব।’
অস্কার দরকার নেই, এটাই (মেরিল-প্রথম আলো সমালোচক পুরস্কার) অব্যাহত থাকুক, আমরা তাতেই অগ্রসর হব।
আফজাল হোসেন
মেরিল–প্রথম আলোর প্রথম আসরে গান শুনিয়েছিলেন সুমন ও সাবিনা ইয়াসমীনফাইল ছবি
তবে তখনো চমক বাকি ছিল। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বলা হয়েছিল, একটা চমক আছে। শেষভাগে চমক নিয়ে গিটার হাতে মঞ্চে এলেন পশ্চিমবঙ্গের গায়ক সুমন চট্টোপাধ্যায় (কবীর সুমন)। করতালিতে তাঁকে অভিবাদন জানালেন দর্শকেরা। ‘প্রথমত আমি তোমাকে চাই’ গেয়ে এ আসরের ইতি টেনেছিলেন সুমন।
এ আসরের সূচনা করেছিলেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক (এখন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক) আনিসুল হক। শুরুতে বক্তব্য রেখেছিলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, স্কয়ার টয়লেট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু। এ আসরে চলচ্চিত্র, টিভির জনপ্রিয় তারকা, সংগীতশিল্পী, নির্মাতা, মডেলসহ আরও অনেকেই আলো ছড়িয়েছেন।


আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম আবির্ভাব দিবস। ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ, কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উৎকর্ষের অন্যতম এই নায়কের। তিনি অনন্য সব সৃষ্টি গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ছোটগল্প ও অসংখ্য গানের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বের কাছে।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মা সারদাসুন্দরী দেবী এবং বাবা ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন আট বছর বয়সে। ১৮৯১ সাল থেকে বাবার আদেশে নদিয়া, পাবনা, রাজশাহী ও ওড়িশার জমিদারি তদারকি শুরু করেন। কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনি দীর্ঘসময় অতিবাহিত করেন। ১৯০১ সালে সপরিবারে চলে আসেন বীরভূমের বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে। তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস, ৩৬টি প্রবন্ধ এবং অন্যান্য গদ্য সংকলন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ নোবেল বিজয়ী এই সহিত্য প্রতিভাকে স্মরণ করবে তার অগণিত ভক্ত।

 

বিটিভিতে সকাল ৯টায় থাকছে বিশেষ শিশুতোষ অনুষ্ঠান। সকাল ১০টা ৫ মিনিটে প্রচারিত হবে রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান ‘গীতবিতান’। সন্ধ্যা ৬টায় থাকছে বিশেষ কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় থাকছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে নাটক ‘সম্পত্তি সমর্পণ’। রাত ১০টায় সংবাদের পর প্রচারিত হবে বিশেষ রবীন্দ্রসংগীতের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে কবির বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রিয় ৯টি গান পরিবেশন করবেন একঝাঁক রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী। রাত ১১টায় প্রচারিত হবে ‘চিত্রাঙ্গদা’।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যজগৎ ছিল নানা বর্ণ, মানসিকতা ও চেতনায় ভরপুর। তাইতো, নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি চারুলতা, সামাজিক বেড়াজাল ভেঙে আত্মসচেতন হয়ে ওঠা বিনোদিনী কিংবা গোরা উপন্যাসের স্বদেশপ্রেম ও জাতিসত্তার পরিচয়ে জর্জরিত পুরুষের মধ্যে আজও পাঠক খুঁজে ফেরে নিজেদের। বাংলার মাটিতে যেমন তাঁর কদর, তেমনি বিশ্ব দরবারেও সমানভাবে ছড়িয়ে আছে তার দীপ্তি। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯১৩ সালে নবজাগরণের এই পুরোধাকে ভূষিত করা হয় নোবেল পুরস্কারে। দিনটি উদযাপনে দেশের বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে নানা আয়োজন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী আজ

প্রতিবেদন: ওমর ফারুক

আজ ৩ মে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ মে-কে বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৯১ সালে নামিবিয়ার উইন্ডহুকে গৃহীত উইন্ডহুক ঘোষণা-এর মাধ্যমে স্বাধীন ও বহুমুখী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়, যা পরবর্তীতে এই দিবস ঘোষণার ভিত্তি তৈরি করে।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে অবদান রাখছেন।

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে গণ টেলিভিশন-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের জানানো হয়েছে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ বিশ্ব গণমাধ্যম দিবস

প্রতিবেদনঃ ওমর ফারুক

যারা বিবাহিত, তাদের তুলনায় অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এক গবেষণায় এমন চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কখনো বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

 

 

২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৪০ লাখের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফল পাওয়া গেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসারের ক্ষেত্রেই অবিবাহিতদের ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে।

 

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত।

 

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বিয়ে অনেক সময় মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরীক্ষার মতো বিষয়গুলো এতে যুক্ত থাকে। ফলে এটি পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

 

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এর মানে এই নয় যে বিয়ে করলেই ক্যানসার থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে। বরং এটি একটি সামাজিক ও আচরণগত ইঙ্গিত মাত্র।

 

গবেষকরা আরও বলেছেন, যারা অবিবাহিত, তাদের উচিত স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকা। নিয়মিত পরীক্ষা করানো এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখে।

 

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, বলছে গবেষণা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

গাইবান্ধায় ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যার প্রতিবাদে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সমাবেশে সংগঠনটির লক্ষ্মীপুর শহর শাখার সভাপতি আব্দুল আওয়াল হামদু বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিএনপির দল পরিচালনা করা হয় মাদকের টাকা দিয়ে। এটি জাতির কাছে এখন স্পষ্ট। তারা সভা-সমাবেশে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বললেও মূলত মাদক নিয়ন্ত্রণ করে তারাই।

 

শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে শহরের উত্তর তেমুহনী থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে দক্ষিণ তেমুহনীতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

 

সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের লক্ষ্মীপুর শহর শাখার সভাপতি আব্দুল আওয়াল হামদু, জেলা সভাপতি আরমান হোসাইন, শহর সেক্রেটারি ইসমাইল হোসেন ফয়সাল এবং অর্থ সম্পাদক জুনায়েদ হোসেন খান।

 

বক্তব্যে আব্দুল আওয়াল হামদু আরও বলেন, ছাত্রশিবির একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। তবে নির্দেশনা এলে আমরা তার চেয়েও কঠোর হতে পারি। শিবিরের দিকে আঙুল তুলবেন না, আঙুল থাকবে না; চোখ রাঙাবেন না, চোখ থাকবে না। তাই আপনারা শান্তিতে থাকুন এবং দেশের মানুষকে শান্তিতে থাকতে দিন।

 

সমাবেশে বক্তারা গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিএনপি মাদকের টাকায় পরিচালিত হয়—শিবির নেতা হামদু

বগুড়ার ধুনটে ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক জহুরুল ইসলাম সাগরের ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি ঘরের বারান্দায় খাটের ওপর বসে ইয়াবা সেবন করছেন। সাথে থাকা কোনো ব্যক্তি তার অজান্তে ভিডিওটি করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোবাইল ফোন বন্ধ ও বাড়িতে না থাকায় এ ব্যাপারে যুবদল নেতার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

জানা গেছে, জহুরুল ইসলাম সাগর বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের ভুতবাড়ি গ্রামের সামসুল হকের ছেলে। তিনি ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক। তার বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ ছিল। তবে কেউ ভয়ে মুখ খোলার সাহস করছিলেন না।

 

সম্প্রতি ফেসবুকে তার ইয়াবা ট্যাবলেট সেবনের ভিডিও প্রকাশ হওয়ায় গ্রামজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ঘরের বারান্দায় খাটের ওপর বসে ইয়াবা সেবন করছে। এ সময় তার সঙ্গে একজন থাকলেও তাকে চেনা যাচ্ছেনা। সঙ্গে থাকা কোন ব্যক্তি প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওটি ধারন করেন।

 

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উপজেলায় দলের নামে সাগর বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হন। ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও নেতাকর্মীরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।

 

এ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মধু বলেন, যুবদলে কোনো মাদকসেবী বা সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। ভিডিওটি তার নজরে পড়েছে। ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জহুরুল ইসলাম সাগরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধুনটে যুবদল নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ম সমাবর্তন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

 

শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত সিনেটের ৪৩তম বার্ষিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। উপাচার্যের সভাপতিত্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

 

উপাচার্য জানান, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৭ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে তিনি আগ্রহী। এ বিষয়ে সিনেট সদস্যদের পরামর্শ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, সমাবর্তন আয়োজনের প্রস্তুতি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপাচার্য।

 

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) মনোনীত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সিনেটে অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। তবে এবারের সিনেট অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েও সদ্য নির্বাচিত জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম অংশ নিতে পারেননি।

 

বার্ষিক সিনেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া গত বছরের ২৮ জুন অনুষ্ঠিত সিনেটের ৪২তম বার্ষিক সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন ও নিশ্চিতকরণের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সিনেট সদস্য, মনোনীত প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

 

২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাচ্ছে জাবির ৭ম সমাবর্তন

সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। হবিগঞ্জের মাধবপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

 

বিজিবি জানায়, শুক্রবার (২৭ জুন) রাতে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৮ থেকে ১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।

 

বিজিবি জানায়, রাতের অন্ধকারে সীমান্তের নিরাপত্তা বাতি বন্ধ করে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় টহলরত বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের তৎপরতায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়। পরে বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

 

এদিকে, সীমান্তে যে-কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

হবিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, বিজিবির কঠোর অবস্থান

ফেসবুক লাইভে এসে অদ্ভুত সব আচরণ, বিতর্কিত মন্তব্য ও হাস্যরসের জন্য পরিচিতি পাওয়া সিফাত উল্লাহ ওরফে সেফুদা’র জীবন সংকটাপন্ন। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে নিজের ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হসপিটালে চিকিৎসাধীন একটি ছবি শেয়ার করে বিষয়টি জানান নিজেই।

 

তবে এবার সিফাত উল্লাহ যা লিখেছেন তাতে অবশ্য মন পুড়বে ভক্তদের। কারণ এতে সবার চোখে ভেসে উঠবে একজন রষিক মানুষের একাকিত্বের গল্পটা।

 

সিফাত উল্লাহর পোস্টটি ছিলো এমন— ‘আমার অবস্থা সংকটাপন্ন। আপনারা অনেকেই জানেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তি দেশে যা আছে আমি একটি কলেজের নামে দিয়ে দিয়েছি। ইচ্ছে ছিল মায়ের নামে একটি হাসপাতাল করার। যদি আমি মারা যাই, আপনাদের কাছে শুধু দোয়া চাই। হয়ত আমার লাশ আমার প্রিয় বাংলাদেশে যাবে না। নেওয়ার মতো কেউ নেই, আমাকে সবাই ক্ষমা করুন।’

 

সিফাত উল্লাহ, যিনি অনলাইনে ‘সেফুদা’ নামে পরিচিত। অস্ট্রিয়ান প্রবাসী এই বাংলাদেশি দীর্ঘদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত নানান হাস্যরসাত্বক কর্মকাণ্ডের কারণে। ফেসবুকে তার ফলোয়ারের সংখ্যাও প্রায় ৫ লাখ।

 

জানা যায়, সেফুদা খুলনার সোনাডাঙ্গায় ৫ নভেম্বর ১৯৪৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। ১৯৮৫ (মতান্তরে ১৯৮৮) সালে প্রথম সৌদি আরব যান এবং সেখান থেকে ১৯৮৮ সালে (মতান্তরে ১৯৯১) সালে অস্ট্রিয়ায় যান।

 

তথ্য অনুযায়ী, সেফাত উল্লাহ ১৯৭৯/১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। এরপর ভিয়েনায় এক স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। পাশাপাশি একটি অনলাইন শপে পার্টটাইম কাজ করতেন। ২০১০ সালে স্ট্রোক করেন সিফাত উল্লাহ। তার কিছুদিন পর মাথার চুল পড়ে যায়।

 

সেফুদার স্ত্রী এবং এক সন্তান রয়েছে। যদিও বর্তমানে তার স্ত্রী-সন্তান কিংবা পরিবারের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। পারিবারিক সম্পর্কবিহীন সিফাত উল্লাহ দেশের ওপর রাগ করে একাকী প্রবাস যাপন করছেন দীর্ঘদিন।

 

সেফুদার বড় ভাই শামছুল আলম মজুমদারের ভাষ্যমতে, ‘সেফাত উল্লাহ ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছেন। এরপর জাতিসংঘের শ্রম সংস্থায়ও (আইএলও) চাকরি করেছিলেন একসময়।

আমার অবস্থা সংকটাপন্ন: সেফুদা

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার গোপাল ইউনিয়নে জোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবলীগ কর্মীর গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

শনিবার (২৭ জুন) সকালে ইউনিয়নের নুর আহাম্মদ মাস্টারবাড়ির সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রলীগ কর্মী মামুনুর রশিদ মামুন ও শাহাদাত হোসেন তাকে হত্যা করেছেন।

 

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় পারভেজ ও মামুন দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। সে সময় আদালতের বিভিন্ন ব্যয় পারভেজ বহন করলেও মামুন কোনো অর্থ দেননি বলে স্থানীয়দের দাবি। জামিনে মুক্তির পর স্থানীয় একটি দোকানকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়।

 

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে বাড়ির সামনে দু’জনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ হাতে থাকা একটি লাইট দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করেন। পরে দুই পক্ষের স্বজনেরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।নিহতের বাবা আবু তাহের বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি সর্বশেষ ছেলেকে দেখেন। শনিবার সকালে বাড়ির সামনে ছেলের গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।

 

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দোকান নিয়ে বিরোধের জেরেই শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুন পারভেজকে হত্যা করেছেন।

 

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের বলেন, নিহত পারভেজ এবং অভিযুক্ত মামুন ও শাহাদাতের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগেও তারা একই কারাগারে ছিলেন। জামিনে মুক্তির পর তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ফেনীতে দুই ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে যুবলীগ কর্মী খুন

ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের কর্মজীবীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর বাগেরহাটের মোংলা নদীতে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস চালু হয়েছে।

 

শনিবার (২৭ জুন) সকালে মোংলা ফেরিঘাটে ফুলটাইম ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।

 

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইপিজেডের শ্রমিকদের যাতায়াত সহজ করতে সকাল ৭টা থেকে ৮টা পর্যন্ত নদীর উভয় প্রান্ত থেকে ফেরি চলাচল করবে। এছাড়া অফিস ছুটির সময়েও দুই পাশ থেকেই ফেরি চলাচল করবে।

 

শেখ ফরিদুল ইসলাম আরও জানান, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মোংলা-ঘাষিয়াখালী চ্যানেল নিয়মিত খনন করা হবে।

 

২০০৩ সালে মোংলা নদীতে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এতদিন শুধুমাত্র জোয়ারের সময় ফেরি চলত। বাকি সময় বন্ধ থাকত ফেরি সেবা।

দীর্ঘ ২৩ বছর পর মোংলা নদীতে চালু হলো ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনে তার প্রথম বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই বাবা ও মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন।

 

শনিবার (২৭ জুন) বেলা সোয়া ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের মাজার কমপ্লেক্সে বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

 

এ সময় তারেক রহমান তার বাবা ও মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে পবিত্র ফাতিহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাত করেন।

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

দেশে ফিরে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফরে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

 

শনিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের প্রথমেই ওই সফরের বিষয়ে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন। পরে স্পিকার ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তাতে সবাই সমর্থন জানান। এ সময় সংসদে সবাই টেবিল চাপড়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

 

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা তারেক রহমান সরকার গঠনের চার মাসের মাথায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব হয়ে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। সফরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে এবং অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে তিনি এই সফরে অনেকগুলো চুক্তি সম্পাদন করেছেন।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে মালয়েশিয়ার এবং একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে দুই দেশের পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হয়েছে। দীর্ঘ একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের নেতৃত্ব দেওয়ার পরে আমাদের নেতা ইতোমধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নিজের একটা অবস্থান তৈরি করে ফেলেছেন, যেখানে বাংলাদেশের মানুষ তার সম্পর্কে ধারণা সৃষ্টি করেছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর: সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব পাশ

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় ছুটির পর প্রধান শিক্ষিকা স্কুল ত্যাগ করার সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা তার কাছে থাকা ব্যাগটি দেখতে চান। প্রথমে তিনি ব্যাগ দেখাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে স্থানীয়দের চাপে ব্যাগ খুলে দেখাতে বাধ্য হন। এ সময় ব্যাগের ভেতর থেকে সরকারি বরাদ্দের ২৪টি ডিম ও ২২ পিস রুটি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

 

শুক্রবার (২৬ জুন) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগ থেকে ডিম ও রুটি বের করে আনতে দেখা যায়। এরপর থেকেই পুরো এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তাদের মতে, শিশুদের অধিকারভুক্ত খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

 

তবে এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, রানিরহাট ১০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি আমি জেনেছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের ডিম-রুটি মিলল প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগে

র‌্যাবের চৌকস অভিযানে জীপসহ প্রায় ১১ হাজার ইয়াবার চালান আটক

জামালপুর হামলা পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে জেলার সানন্দবাড়ী তে থমথমে অবস্থা বিরাজমান।

error: আপনি নিউজ চুরি করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৪৪৪৩৩৩
%d